ফরিদপুরে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে

মঙ্গলবার, আগস্ট 24, 2021

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ফলে ফরিদপুর সদরের তিনটি ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রাম ও পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

ফরিদপুর সদরে বিভিন্ন স্থানে ও সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন। শনিবার সকাল ৬টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

এদিকে শুক্রবার সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের দুর্গত ৪০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২টি ইউনিয়নের ৩৫০ পরিবারের মধ্যে রোববার ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কথা আছে। এর মধ্যে ডিক্রির চরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫০ প্যাকেট ত্রাণ ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে বরাদ্দ পেয়েছে ১০০ প্যাকেট। বরাদ্দ ত্রাণের মধ্যে আছে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, তেল আধা লিটার, চিড়া আধা কেজি ও চিনি আধা কেজি।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের মধ্যে ১ হাজার ১৫০ পরিবার, ডিক্রির চর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ১ হাজার ২০০ পরিবার ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের মধ্যে ৩ হাজার পরিবারসহ মোট ৪১টি গ্রামের ৫ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে।

 

ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, নাজিম বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামে যাওয়ার ইট বিছানো সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ও ব্যাপারী ডাঙ্গীগামী সড়কের মোতালেব মিন্টুর বাড়ির সামনে ৫০ মিটার অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানান নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ইউনিয়নের শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গী গ্রামের ১৬ একর ও আলিমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের ৩ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আলিমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে ভাঙনের কবলে পড়ে একটি কলাবাগানের অন্তত দেড় হাজার কলাগাছ ভেসে গেছে।

পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় ফরিদপুরের মোট ৪১টি গ্রামের ৫ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বরণ বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু খাঁ (৫৫)। তিনি বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি। আরও ছয় ইঞ্চি পানি বাড়লে তাঁর গোয়ালঘরে পানি ঢুকবে। তখন চারটি গরু নিয়ে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

একই ইউনিয়নের সুলতান খার ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ হাসি বেগম (৩২) বলেন, আর এক ফুট পানি বাড়লে ঘরে পানি ঢুকে যাবে। গ্রামের লোকজন পানির কারণে শিশুদের নিয়ে সমস্যায় আছে।

চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম বলেন, তাঁর ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়ে আছে অন্তত তিন হাজার পরিবার। অথচ তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০০ প্যাকেট ত্রাণ।

 

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দুই দিন পর পানি কমতে শুরু করবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম রেজা বলেন, বন্যার ঝুঁকিতে থাকা সদরের ৩টি ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৪০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য ও ২০০ বস্তা (প্রতি গরুর জন্য এক বস্তা) গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আরও বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রথম আলো সংবাদপত্রে। তথ্য ও চিত্র গ্রহণ করেছেন প্রথম আলোর স্থানীয় প্রতিনিধি। যেহুতু জুরিখ ফ্লাড রেজিলিয়ান্স এলায়েন্স এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন এই কমিউনিটির বন্যা সহনশীলতা বিষয়ক কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতা হিসাবে কমিউনিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পার্টনার অর্গানাইজেশনকে অবহিত করার লক্ষ্যে এখানে ব্লগ আকারে প্রকাশ করা হলো। মূল লেখা পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

মন্ত্যব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


মন্তব্যসমুহ